Dhaka.
আপনি কি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান? এই পদক্ষেপগুলো আপনার জন্য
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের সফলতা না আসার পিছের কারণ হচ্ছে, আমরা খুব কম সময়ে সফলতা চাই বা খুব কম কস্ট করে সফলতা চাই। পরিবারে অনেক কস্ট দেখেছি, জীবনের শুরুতেই অনেক কষ্টের সময় পার করেছি তাই কর্ম জীবনে এসে আমরা সোজা বা খুব সহজ পথটা খুঁজতে থাকি।
এই সোজা এবং সহজ পথ খুঁজতে গিয়ে আমরা আবার সেই কষ্টের জীবনকে আরো কষ্টকর বানিয়ে তুলি।
একটু ব্যাখ্যা করছি কিভাবে এই ঘটনা ঘটে –
– আর্থিক সমস্যা থাকার জন্য হয়ত কখনো ভালো কোথাও পড়াশুনা হয়নি।
– মনের কষ্ট এর জন্য নিজেকে অনেক জায়গা থেকে গুটিয়ে নিয়েছি।
– অনেক সময় পরিবার এর উপর বিরক্ত হয়ে ঠিক মত পড়াশুনা করিনি।
– পড়াশুনা এর সাথে সাথে অন্যান্য শিক্ষা অর্জন এর প্রতি ছিল অনেক অনিহা।
—- এসব ঘটনা এর মূল কারণ হচ্ছে, আমরা আমাদের পরিবার এবং আমাদের বাবা-মা-কে সবসময় দোষ দিয়ে এসেছি এবং এই নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার কারণে বাবা-মা এর চাইতে যে নিজের ক্ষতি হচ্ছে তা আমরা কখনোই চিন্তা করিনি।
যখন কর্ম জীবন শুরু হয়েছে তখন নিজের খারাপ দিক গুলোকে ঢেকে কোন চাকুরী পাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়েছি। ঠিক ভিডিওতে দেখানো আমার শার্ট এর মত অপরপক্ষ সহজেই বুঝে গিয়েছেন আমার কি অবস্থা, আমি কি পারি বা কি পারি না। অনেক গুছিয়ে শার্ট পরেও শার্ট এর ভাজ যেমন ঢাকতে পারিনি, ঠিক তেমনি অনেক অভিনয় করেও লুকাতে পারি নি আমি কি কি জানি না। এই অবস্থায় আমার শার্টটি ইস্ত্রি করা দরকার ছিল, ঠিক তেমনি লুকানোর চেষ্টা না করে আমাদের শিক্ষা এর দরকার ছিল, জ্ঞ্যান এর দরকার ছিল, অভিজ্ঞতা এর দরকার ছিল।
এই অবস্থায় আবার অনেকে বাবা-মাকে দোষ দিয়ে জীবনে সফল হওয়ার শর্ট-কাট রাস্তা খুঁজতে থাকে।
যেমন – আমরা দেখেছি ইভ্যালিকে। আমি ইভ্যালি এর চাইতে যারা ইভ্যালিতে টাকা দিয়েছেন ব্যবসায় এর আশায় তাদের দোষ দেই, ইভ্যালি একটি ইকমার্স প্রতিষ্ঠান, এখান থেকে আপনি দরকারি পণ্য কিনবেন, এখন সবার যদি এখান থেকে পণ্য কিনে আবার বিক্রি করে লাভবান হতে চায় তাহলেতো বিপদ আসবেই। ইভ্যালি যদি কোন পাইকারি প্রতিষ্ঠান হোত তাহলে অন্য কথা ছিল। সেই সহজ পথে টাকা পেতে গিয়ে আবার আমরা বড় বিপদ-এ পরে গেলাম। কিন্তু আমরা এখনো ভাবলাম না আমাদের কাজ শেখা উচিত, কাজ আমাদের অনেক দিন পর্যন্ত অর্থ উপার্জন এ সাহায্য করবে।
তাহলে আমাদের করনীয় কি?
১. বাবা-মা কে দোষ না দিয়ে, অবস্থা বুঝে যেভাবেই সম্ভব ভালো করে পড়াশুনা করা। নয়ত ভবিষ্যৎ এ আপনার সন্তান আপনাকে দোষ দিবে।
২. পড়াশুনা এর পাশাপাশি ছোট কোন কাজের মাদ্ধমে অর্থ উপার্জন করে (যেমন – টিউশনি করা, কোন ফাস্টফুড এ কাজ করা) আরো স্কিল অর্জন করা (যেমন – ইংরেজি শেখা, মাইক্রোসফট অফিস শেখা, গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখা ইত্যাদি)
৩. যদি পড়াশুনা এর সময় শেষ হয়ে যায়, যদি ভুল করে ফেলেন তাহলে এ ভুল আর শুধরানো সম্ভব নয়। এবার অন্যান্য স্কিল গুলো শেখার দিকে নজর দিন।
৪. তারপর কোন কাজে ঢোকার চেষ্টা করুন, অন্যান্য স্কিলগুলো কাজ পেতে সাহায্য করবে।
৫. মাথা থেকে একদম ঝেড়ে ফেলে দিন, কম সময়ে কম কষ্টে সফল হওয়ার কথা।
৬. কাজ পেলে শেখানে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হবেন, তা মেনে নিবেন কাজ শিখবেন, সমস্যার সমাধান করবেন, পারলে আরো স্কিল বাড়ানোর চেষ্টা করবেন।
৭. এর মধ্যে টাকা জমানোর চেস্টা করবেন, যদি ভালো টাকা জমানো সম্ভব হয়, এবং ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন হয়, নিজের প্রতি বিশ্বাস অর্জন হয়, যদি মনে করেন আপনার পক্ষে একটি ছোট ব্যবসায় দেয়া সম্ভব তাহলে সে জন্য পদক্ষেপ নিবেন।
এভাবেই সফলতা আসবে, অনেক না আসলেও আগের চাইতে জীবনে শান্তি আসবে।
মনে রাখবেন, কষ্ট করে সামনে যেতে হবে, ব্যর্থতা মেনে নিয়ে শিখতে হবে, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সমস্যার সমাধান কিভাবে হয় তা শিখতে হবে, একটু সময় লাগলেও জীবনে সুখ আসবে।
আর যদি সোজা সহজ পথ বেছে নিন, তাহলে মনে রাখবেন একদিন আবার একই জায়গায় ফিরে আসতে হবে বা আরো পিছিয়ে পরতে হতে পারে।
ভিডিওটি দেখুন সঠিক দিক নির্দেশনা পাওয়ার জন্য।